কোমোরোসের ৪৬ বছর বয়সী বাসিন্দা সাঈদ মাউলিদা বেশ কয়েক বছর ধরে নীরবে মূত্রতন্ত্র-সংক্রান্ত গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘন ঘন ব্যথা, প্রস্রাবে কষ্ট এবং বারবার সংক্রমণের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত—উভয় জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছিল। স্থানীয় চিকিৎসায় কেবল সাময়িক উপশম মেলায়, সাঈদ বিদেশে উন্নত চিকিৎসার শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই অনুসন্ধানের সূত্র ধরে তিনি শেষমেশ ভারতের ডা. রাজীব যাদবের কাছে পৌঁছান; সেখানে তিনি মূত্রতন্ত্রের একটি সফল অস্ত্রোপচার করান, যা তাঁর শারীরিক সুস্থতা ও জীবনযাত্রার মানকে আমূল বদলে দেয়।
প্রশ্ন: আপনি কেন ডা. রাজীব যাদবকে বেছে নিলেন?
উত্তর: সঠিক চিকিৎসক নির্বাচন করাটা আমার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল। আমি অনলাইনে ব্যাপকভাবে খোঁজখবর নিয়েছি এবং চিকিৎসা সহায়তাকারীদের (চিকিৎসা সহায়তাকারী) সাথে কথা বলেছি। ডা. রাজীব যাদব ইউরোলজিতে তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতা এবং তাঁর দ্বারা সফলভাবে সামলানো কেসের সংখ্যার কারণে তিনি অন্যদের থেকে আলাদা ছিলেন। আমি রোগীদের প্রশংসাপত্রও পড়েছিলাম, যা তাঁর দক্ষতা এবং সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আমাকে আশ্বস্ত করেছিল। ভারতের নামকরা হাসপাতালগুলির সাথে তাঁর সংযোগ আমাকে আরও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।
প্রশ্ন: ডা. যাদবের তত্ত্বাবধানে আপনার অস্ত্রোপচারটি কতটা নিরাপদ ছিল?
উত্তর: নিরাপত্তা ছিল আমার অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়; তবে শুরু থেকেই আমি বেশ নিশ্চিন্ত বোধ করছিলাম। ভারতে পৌঁছানোর পর, আমি অস্ত্রোপচারের জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত কি না—তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাই। ডা. রাজীব যাদব অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে পুরো অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করেছিলেন—যার মধ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং ফলাফলগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর নীতিমালা মেনে চলেছিল। মূল অস্ত্রোপচারটি অত্যন্ত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয় এবং এরপরও আমাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। পুরো প্রক্রিয়াটি চলাকালীনই আমার মনে হয়েছে যে, আমি অত্যন্ত নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হাতেই ছিলাম।
প্রশ্ন: আপনার ইউরোলজি চিকিৎসার যাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল?
উত্তর: আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি দিয়ে, যা আমি আর উপেক্ষা করতে পারছিলাম না। প্রথমে, আমি কমোরোসে ওষুধ খেয়েছিলাম, কিন্তু সেই স্বস্তি ছিল সাময়িক। যখন আমার উপসর্গগুলি আরও খারাপ হয়ে গেল, আমি বিদেশে চিকিৎসার খোঁজ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি একটি মেডিকেল ট্যুরিজম পরিষেবার সাথে যোগাযোগ করি, যারা আমাকে সংযোগ করিয়ে দেয় ডা. রাজীব যাদব ইউরোলজি সার্জন, ভারত আমি অনলাইনে আমার রিপোর্টগুলো পাঠিয়েছিলাম এবং মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই চিকিৎসার একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা হাতে পেয়ে যাই। এই স্বচ্ছতার কারণে আমি পূর্ণ প্রস্তুতি ও অটুট আশা নিয়ে ভারতে পাড়ি জমাতে পেরেছিলাম।
প্রশ্ন: চিকিৎসার পর আপনার জীবনের কী উন্নতি হয়েছে?
উত্তর: উন্নতিটা ছিল অসাধারণ। অস্ত্রোপচারের আগে, আমি আমার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতাম, যা আমার দৈনন্দিন কাজকর্ম এবং ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলত। চিকিৎসার পর, আমি সেই বোঝা থেকে মুক্তি পেয়েছি বলে মনে করছি। এখন আমি কোনো অস্বস্তি বা দুশ্চিন্তা ছাড়াই আমার দিনটি কাটাতে পারি। আমার শারীরিক শক্তি বা কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধি পেয়েছে; এখন আমি আমার কাজে আরও ভালোভাবে মনোযোগ দিতে পারি এবং পরিবারের সাথে সুন্দর সময় কাটাতে পারি।
প্রশ্ন: অস্ত্রোপচারের পর আপনার উপসর্গগুলো কত দ্রুত উপশম হতে শুরু করেছিল?
উত্তর: অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই আমি উন্নতির লক্ষণ দেখতে শুরু করি। ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল এবং প্রস্রাব সংক্রান্ত যে সমস্যাগুলো আমি বছরের পর বছর ধরে ভোগ করছিলাম, সেগুলো মিটে যেতে শুরু করে। মাত্র দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই আমি নিজেকে প্রায় স্বাভাবিক অনুভব করতে শুরু করি। সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি আমার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ছিল—যার পুরো কৃতিত্ব প্রাপ্য চিকিৎসা দলের সঠিক নির্দেশনা ও যত্নের।
প্রশ্ন: অস্ত্রোপচারের পর আপনি কী ধরনের ফলাফল পেয়েছেন?
উত্তর: ফলাফলগুলো ছিল জীবন-পরিবর্তনকারী। আমার শারীরিক উপসর্গগুলো পুরোপুরি দূর হয়ে গেছে এবং এখন আমাকে আর নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয় না। পরবর্তী ফলো-আপ পরীক্ষাগুলোতেও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, আমার মূল শারীরিক সমস্যাটির সফল চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। শারীরিক স্বস্তির পাশাপাশি, আমি যে মানসিক শান্তি লাভ করেছি, তা অমূল্য। আমার মনে হচ্ছে, একটি সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য আমাকে যেন দ্বিতীয় একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: ভারতে আপনার ইউরোলজি চিকিৎসার খরচ কেমন ছিল?
উত্তর: আমি ভারতকে বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল চিকিৎসার সাশ্রয়ী খরচ। অন্যান্য দেশের তুলনায়, এখানে চিকিৎসার খরচ অনেক কম ছিল—অথচ চিকিৎসার মানের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হয়নি। আমি যে প্যাকেজটি পেয়েছিলাম, তার অন্তর্ভুক্ত ছিল চিকিৎসকের পরামর্শ (কনসালটেশন), অস্ত্রোপচার, হাসপাতালে অবস্থান এবং পরবর্তী ফলো-আপ সেবা। এমনকি যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ যোগ করার পরেও, মোট ব্যয়টি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ছিল। এর ফলে আমার মতো সাধারণ মানুষের পক্ষেও উন্নতমানের চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশ্ন: অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
উত্তর: ডা. রাজীব যাদবের তত্ত্বাবধানে সফল ইউরোলজি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর হাসপাতালে আমার অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার। হাসপাতালের কর্মীরা ছিলেন অত্যন্ত পেশাদার, যত্নশীল এবং সর্বদা সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া থেকে শুরু করে ছাড়পত্র পাওয়া পর্যন্ত—সবকিছুই ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত। নার্সরা নিয়মিত আমার খোঁজখবর নিতেন এবং চিকিৎসকরা নিশ্চিত করতেন যেন প্রতিটি ধাপে আমি স্বাচ্ছন্দ্যে থাকি ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য জানতে পারি। হাসপাতালের পরিবেশ ছিল পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক, যা চিকিৎসার প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল।
কোমোরোস থেকে ভারতে সাইদ মাউলিদার এই চিকিৎসা-যাত্রাটি প্রমাণ করে যে, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার শক্তি কতটা প্রবল। ডা. রাজীব যাদবের তত্ত্বাবধানে তাঁর সফল ইউরোলজি অস্ত্রোপচারটি কেবল তাঁর দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্যসমস্যাই সমাধান করেনি, বরং তাঁর আত্মবিশ্বাস ও সামগ্রিক সুস্থতাও ফিরিয়ে এনেছে।


.jpg)



